এম এ সাকিব খন্দকার, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দিনে দিনে মানুষ হিংস্র হয়ে যাচ্ছে। উঠে যাচ্ছে ন্যায় নীতি আদর্শ ও সততা।
এখন আর কেউ কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। বিশ্বাস করলে তার ঘরে সে আগুন দিবেই।
এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া থানার,আধুনগর সিপাহী পাড়া গ্রামের, আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার এর ছেলে মোহাম্মদ হানিফ মাহমুদ।
মামলার এজাহার সুত্রে জানাযায়, চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া থানার আধুনগর সিপাহীপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার এর ছেলে মোহাম্মদ হানিফ মাহমুদ গাজীপুর মহানগর টঙ্গী পূর্ব থানার অধীনস্থ পাগার জৈমত খান রোড সালামের আটার কল এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত সুনামের সাথে বসবাস করে আসছেন।
বিবাদী একই এলাকার মোঃ ইদ্রিস এর ছেলে প্রতারক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, তার পূর্ব পরিচিত এবং টঙ্গীতেও একই এলাকায় বসবাস করতেন।
এরই সুবাদে বিবাদী মোঃ জসিম উদ্দিন হানিফ মাহমুদের অতি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। হানিফ মাহমুদের সর্বোচ্চ আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা দখল করে নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান চট্টগ্রাম তার নিজ এলাকায় জিপসাম মফিজ প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর রেডি ফ্ল্যাট বিক্রি হবে, তার কথামত মামলার বাদী মোহাম্মদ হানিফ মাহমুদ উক্ত ফ্ল্যাট ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রতারক জসিম উদ্দীনকে খোঁজখবর নিতে বলেন, এই সুযোগে প্রতারক জসীমউদ্দীন খোঁজ খবর নিয়ে বাদী হানিফ মাহমুদকে জানায় চট্টগ্রাম জেলার কোতোয়ালি থানার অন্তগত,চন্দ্রপুরা মৌজার ১৬ নং ওয়ার্ডের জিপসাম মফিজ প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর ১১ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার (ফ্লাট নং জি-১) বিক্রি হবে, ফ্ল্যাটের মুল্য সর্বমোট ৩৬ লক্ষ টাকা, এটা চাইলে আপনি নিতে পারেন, তখন বিবাদী হানিফ মাহমুদ প্রতারক জসিম উদ্দীনের কথামত উক্ত ফ্ল্যাট কেনার জন্য, বায়না হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড এর একটি চেকের (নং- ৬০৪৬৪৪০) মাধ্যমে ০৬/০২/১৬ খ্রিঃ তারিখে ১০ লক্ষ টাকার চেক জিপসাম মফিজ প্রোপার্টিজ লিমিটেড চট্টগ্রাম এর নামে বিবাদী জসিমের উদ্দীনের হাতে হস্তান্তর করেন।
এবং পরবর্তীতে আবারও ১৪/০২/১৬ খ্রিঃ তারিখে চেকের (নং ৬০৪৬৪৪১) মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা, প্রতারক জসিম উদ্দীনের হাতে জীপসাম মফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেডকে প্রদান করেন।
এবং গত ১৬/০৩/১৬ খ্রিঃ তারিখে (নং-৬০৪৬৪৬৮) চেক এর মাধ্যমে ৬,০০,০০০,ছয় লক্ষ টাকার চেক জিপসাম মফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেড এর নামে জসীমউদ্দীনের হাতে তুলে দেন। টাকা গ্রহণ করার পর প্রতারক জসিম উদ্দিন অতি চতুরতা ও চালাকির মাধ্যমে জিপসাম মফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেড এর থেকে ফ্ল্যাটটি নিজের নামে সাব- কবলা দলিল করে নেন এবং বিষয় টি গোপন রেখে কবলার কথা বলে হানিফ মাহমুদের কাছে বাকী ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন।
তার কথামত হানিফ মাহমুদ গত ২২/০৩/১৬ তারিখে (নং-৬০৪৬৪৬৯) চেক এর মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা, জিপসাম মফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেড চট্টগ্রাম শাখা এর নামে বিবাদী জসীমউদ্দীনের হাতে লিখে দেন।
টাকা পরিশোধ হওয়ার পর বাদী হানিফ মাহমুদ রেজিঃ নকল উঠাইয়া দেখতে পান যে ভূমির মূল্য ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা এবং ফ্ল্যাটের মূল্য ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হলেও প্রতারক জসিম অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি তার নিজের নামে সাব-কবলা করেছেন যা রীতিমতো ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার সামিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হানিফ মাহমুদ প্রতারক জসিম উদ্দীন কে আসামী করে গত ১৬/০৭/২৪ ইং তারিখে গাজীপুর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আদালতে একটি প্রতারণা ( নং-৬৪৫/২৪) মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ ঘটনার সত্যতা নির্ণয় করে আদালতে চার্জসীট প্রেরন করলে বিজ্ঞ আদালত থেকে প্রতারক জসিম উদ্দীনের নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়, এরই প্রেক্ষিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারী টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ প্রতারক জসিম উদ্দীন কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেন।
ভুক্তভোগী হানিফ মাহমুদ জানান প্রতারক জসিম উদ্দীন একজন প্রতারক সে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ও ফ্ল্যাট কিনে দেয়ার কথা বলে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার কাছ থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন, আমি আমার টাকা উদ্ধার ও প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার চাই।