বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়ছেন, আর গতির আগুনে মুগ্ধ করছেন ক্রিকেটবিশ্বকে। এক বছরের মধ্যেই নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন তিনি। জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ একবার বলেছিলেন, ‘ওর ওপর নজর রাখো।’ বিশপের সেই কথার গুরুত্ব বোঝা গেল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে হারের দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই টাইগার স্পিডস্টার।
গতকাল আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন নাহিদ। রাওয়ালপিন্ডির পিচে নিজের গতির রাজত্ব দেখিয়েছেন তিনি। ১৪৮.৯ কিলোমিটার গতির এক বল খেলতে গিয়েই উইকেট ছুড়ে দেন কেন উইলিয়ামসন। যদিও ৯ ওভারে ৪৩ রান খরচ করেছিলেন, তবে তাঁর গতিময় বোলিং মুগ্ধ করেছে সাবেক ক্রিকেটারদের।
নাহিদের পারফরম্যান্স দেখে প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস। ভারতের সাবেক তারকা বোলার ইরফান পাঠানও মুগ্ধ তরুণ এই প্রতিভায়।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড ড্রেসিংরুম’ অনুষ্ঠানে ওয়াকার ইউনিস বলেন, ‘নাহিদ রানা খুবই ভয়ংকর। পেসের সঙ্গে দারুণভাবে বাউন্স কাজে লাগিয়েছে। উইলিয়ামসনের যে উইকেটটা পেয়েছে, সেটা সামলানো সত্যিই কঠিন ছিল।’
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়েও প্রশংসা করেছেন ওয়াকার, ‘বাংলাদেশি পেসাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছে। ওয়াসিম ভাইও সেটাই বলেছেন। রানার সঙ্গে তাসকিনও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে। কোথায় বোলিং করতে হবে, সেটা ভালোই বোঝে সে।’
অন্যদিকে, ইরফান পাঠান এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘নাহিদ রানা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সেরা ও নির্ভরযোগ্য বোলার হতে পারে। তার উচ্চতা ও গতি দুটোই দুর্দান্ত। ক্রিকেটে তার শুরুটা দেরিতে হলেও কোচদের উচিত এই প্রতিভার যত্ন নেওয়া।’
গত বছর পাকিস্তানের মাটিতেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন নাহিদ। যদিও অভিষেক হয়েছিল তার সিলেটে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে। তবে বিশ্বক্রিকেট তাঁকে চিনেছে ২০২৩ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে।
এই তরুণ পেসার এখন পর্যন্ত ৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন, নিয়েছেন ৪টি উইকেট। টেস্টে ৬ ম্যাচে তার শিকার ২০ উইকেট। এখন অপেক্ষা কেবল টি-টোয়েন্টি অভিষেকের।
নাহিদের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের আরেকটি গতিতারকা উপহার দেবে? সময়ই দেবে তার উত্তর।