মাহিম খান রোমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ধান চাষের পাশাপাশি ঝালকাঠির কৃষকদের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে খেসারি চাষের আগ্রহ। জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে এখন দিগন্তজুড়ে সবুজ খেসারির নীলাভ ফুল। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঝালকাঠির চার উপজেলায় ৭ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে খেসারি ডালের চাষ হয়েছে। সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬২৬ হেক্টর, নলছিটিতে ৮৭৬ হেক্টর, রাজাপুরে ২ হাজার ৪৩ হেক্টর এবং কাঠালিয়ায় ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে এই ডাল চাষ হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, আমন ধান কাটার আগেই জমিতে খেসারির বীজ ছিটিয়ে দেন, যা ‘রিলে ফসল চাষ পদ্ধতি’ নামে পরিচিত। এতে জমি তৈরি করতে বাড়তি খরচ হয় না। সাধারণত নভেম্বর মাসে বিঘাপ্রতি ৫-৬ কেজি বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ধান কাটার পর খেসারি দ্রুত বেড়ে ওঠে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত রিলে পদ্ধতিতে সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তবে বীজ বপনের সময় বিঘাপ্রতি ৬ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি ও ৫ কেজি পটাশ সার ব্যবহার করলে ফলন আরও ভালো হয়।
কৃষকেরা বলছেন, এক বিঘা জমিতে খেসারি চাষ করতে খরচ হয় মাত্র ১ হাজার টাকা। অথচ এক বিঘা জমি থেকে ২০০ কেজির বেশি খেসারি ডাল পাওয়া যায়, যা বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিক্রি করলে আয় হয় ১০ হাজার টাকার বেশি।
গত বছর প্রতি মণ খেসারি ডালের দাম ছিল ২ হাজার থেকে ২,৫০০ টাকা। এবার বাজারদর আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন চাষিরা। শুধু ডাল নয়, খেসারির লতাও শাক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া শুকনো লতা গো-খাদ্য হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের বাড়তি আয় দিচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খেসারি গাছের শেকড়ে তৈরি হওয়া নডুউল মাটির উর্বরতা বাড়ায়। এছাড়া, ফসল তোলার পর ধানের নাড়া মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে জমির লবণাক্ততা কমে যায়, ফলে পরবর্তী ফসলের ফলনও ভালো হয়।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় খেসারির ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে, যাতে তারা সর্বোচ্চ লাভবান হতে পারেন।’
কৃষকেরা বলছেন, ধানের জমিতে খেসারি চাষ সহজ ও কম খরচের হওয়ায় তারা দিন দিন এর দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগও এই চাষ সম্প্রসারণে সহায়তা করছে। সব মিলিয়ে ঝালকাঠিতে খেসারি ডাল হয়ে উঠছে কৃষকদের নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র।