গতকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপুর্ন দিন। জুলাই-অগাস্টের মহান অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারী ছাত্র নেতাদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ আত্মপ্রকাশ করেছে।
আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে এই রাজনৈতিক দলের সাফল্য কামনা করি।
কিন্ত কি এই সাফল্য? সাফল্য কি এই নতুন দল ভোটে জিতে ক্ষমতা গ্রহণ করবে আগামী নির্বাচনে? নাকি এর পরের নির্বাচনে? আর সেটা না হলে তারা অসফল হয়ে যাবে?
একদম না!
রাজনীতি করা মানে ক্ষমতায় যেতে হবে – এই ফিলোসফি আমি বিশ্বাস করি না। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না গিয়েও রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।
আমি মনে করি এই নতুন রাজনৈতিক দলের সফলতা হবে তারা কতটুকু জনগণের স্বার্থের কথা বলবে। কতটুকু নির্মোহ ও সৎ ভাবে বলবে। যেই দল ক্ষমতায় যাবে তাকে কতটুকু চাপে রাখতে পারবে যেন তারা জনগণের স্বার্থ দেখতে বাধ্য হয়। এই কাজ অন্য অনেক ছোট রাজনৈতিক দলও করতে পারতো, কিন্তু নানা কারণে সেটি হয়ে ওঠে নাই। জনগণের বড় অংশকে তারা কানেক্ট করতে পারে নাই। কিন্ত ছাত্ররা পেরেছে, সেটি সমাজের সবাই না হলেও তরুণ সমাজের একটি বড় অংশকে পেরেছে। এটাই তাদের মূল ভিত্তি।
এই নতুন রাজনৈতিক দল কি টিকে থাকবে, নাকি আরো অনেক দলের মত সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাবে? স্বাধীনতার পরে আমাদের দেশে তরুণদের নিয়ে তৈরি জাসদ এরকমই একটি তারুণ্য নির্ভর দল ছিল। কিন্তু তারা টিকে থাকতে পারে নাই। কেন পারে নাই? এক্ষেত্রেই নেতৃত্বের ব্যর্থতা। তারা ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল তাড়াতাড়ি। আর এই জন্য তাদেরকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
নতুন দলের কাছে আমার প্রধান প্রত্যাশা – তোমরা দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করো না। জনগণের কথা বলার জন্য রাজনীতি কর। দেশে তরুণদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব। সেই সমস্যা সামনে নিয়ে আসো। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যু নিয়ে কোনো কথা বলে না। তোমরা বল। দেশের বাহিরে থেকে কিছু অনলাইন ইনফ্লুয়েনসার সরকারকে চাপ দিতে পারলে তোমরা আরো বেশি পারবে।
তোমরা যেই বীর শহীদদের রক্তের উপর প্রতিজ্ঞা করে রাজনীতি শুরু করছেন, সেই শহীদেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গুলির সামনে দাঁড়ায় নাই। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য দাঁড়িয়েছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদই হোক এই নতুন দলের মূল লক্ষ্য।
তোমাদের এই দীর্ঘ যাত্রা শুভ হোক।
ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ সুমন
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক আমার বাংলাদেশ