মোহাম্মদ নয়ন তজুমউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
দৌলতখানে চিকিৎসক সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা। ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার ২ লাখ মানুষ। হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরছে রোগীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের আমলে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতালে অনুমোদিত ১৯ চিকিৎসকের শূন্যপদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। এর মধ্যে ১জন প্রশিক্ষণে আছেন।
সিনিয়র কনসালটেন্টের ১০ শূন্য পদের মধ্যে কর্মরত ১ জন। তিনি প্রেষণে জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। নার্সের ৩০ পদের মধ্যে কর্মরত ১১ জন। সম্প্রতি দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি লাইনে শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। অধিকাংশ রোগী ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এসেছেন। সেবা নিতে এসেছেন প্রসূতি নারীরাও। দু’জন ডাক্তার বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন।
অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে শেষপর্যন্ত চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরছিলো। রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টিকিট কেটে কয়েক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান রোগীরা।
দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, দৌলতখান উপজেলায় ২ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। কিন্তু হাসপাতালে মাত্র ২ জন ডাক্তার। ডাক্তারের অভাবে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না । উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনিসুর রহমান বলেন, জনবল সংকট; তবুও সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। অনেক সময় প্রশাসনিক কাজ রেখে আমি নিজেও আউটডোরে রোগী দেখছি। এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।