সোহাগ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর মাত্র দেড় সপ্তাহ বাকি। অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজার চওড়া হলেও বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতে জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিপণিগুলোতে ভিড় লেগেই আছে ক্রেতাদের। রেডিমেট তৈরি পোশাক কেনার পাশাপাশি নতুন পোশাক বানাতে পছন্দের কাপড় কিনছেন তরুণ-তরুণীরা।
আজ সোমবার (২০ শে মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের
মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। এ ছাড়া দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পছন্দ ও দরদামে মিলে গেলেই কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
ঈদের আগ মুহূর্তে কেনাবেচা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা। এদিকে ক্রেতারা বলছেন, ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। এখন থেকেই মার্কেটে পোশাকসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। ঈদ সামনে এলে আরও দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই আগেভাগে ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলছেন।
এ ছাড়াও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে ঈদ বাজারে প্রতিদিন বাহারি ডিজাইনের পোশাক আসছে। ইতোমধ্যে বাজারে এসেছে দেশি-বিদেশি নতুন নতুন পোশাক। বিক্রেতারা বলেন, সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকে। এ বছর পাঞ্জাবিসহ বাচ্চাদের জামা ভালোই বিক্রি হচ্ছে। আসা করছি ঈদ ঘনিয়ে আসলে বিক্রি আরও বাড়বে। পৌর এলাকায় পছন্দের কাপড় কিনতে ক্রেতারা ছুটছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। কিনে নিচ্ছেন পছন্দের কাপড়টি।
ঈদ কেনাকাটায় বেচাকেনা বেড়েছে বলেও জানালেন বিক্রয়কর্মীরা। ঈদে পুরুষদের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাবি। যারা দরজি দিয়ে বানাতে চান তারা এখন থেকেই কিনছেন পছন্দের কাপড়। ঈদের আনন্দে সব কিছু পেরিয়ে পছন্দের জিনিসের দিকে নজর ক্রেতাদের।
এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের কেনাকাটায় ব্যস্ততা বেড়েছে। তুলনামূলক অল্প দামে পছন্দের পোশাক, গয়না, জুতা, স্যান্ডেল, অন্য প্রসাধনীসহ পছন্দের পণ্য কিনতে তারা এখন ভিড় করছেন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসানো অস্থায়ী দোকানগুলোতে।
মেয়েদের পোশাক, শিশুদের পোশাক, প্রসাধনী, পুরুষদের পোশাক যেমন- জিনস ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ট্রাউজার, জুতা, বেল্ট, ক্যাপ, লুঙ্গি, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। সেখানকার বেশিরভাগ গ্রাহকরা বলেছেন, তারা ফুটপাতের স্টলে কেনাকাটা করছেন।
সেলিম রেজা নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি ফুটপাতের দোকান থেকে কিছু প্রসাধনী ও জুতা কিনবেন। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিটা জিনিসের দাম একটু বেশি। তারপরও মার্কেটের তুলনায় এখানে জিনিসের দাম অনেক কম।
দেখা যায়, অস্থায়ী দোকানগুলোতে কেউ চৌকি পেতে, কেউ কাঠের টেবিল বা ভ্যানের ওপর, কেউ হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে, আবার কেউ চাদর বিছিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের সঙ্গে প্রসাধনী সামগ্রী সাজিয়ে রেখেছেন। ফুটপাতে দোকান সাজিয়ে বসা রাশিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে বেচা-বিক্রি কম থাকলেও এখন বেশ বেড়েছে।
কোন পোশাকের দাম কত: বিভিন্ন ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে শিশুদের জন্য ডেনিম (জিন্স) প্যান্ট ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, অন্য প্যান্ট ৩০ থেকে ৬০, প্যান্ট ও গেঞ্জির সেট ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। শিশুদের ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ওয়ান পিস ১৫০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। মেয়েদের থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, টপস ও ওয়ান পিস ২৫০ থেকে ৩৫০, পার্টি ড্রেস ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০, স্যান্ডেল ও জুতা ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়
ঈদের কেনাকাটায় মার্কেটে মানুষের ঢল: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে।
রোজার শুরু থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত হাজার-হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকছে পুরো মার্কেট এলাকা। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে দুপুরের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত। তখন মানুষের ভিড়ের কারণে ঠিকমতো হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। বড় বিপণি-বিতান এবং মার্কেটের ভেতরের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাত, ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও ঈদের কেনাকাটায় আসা এসব মানুষের ভিড় দেখা যায়। আর রোজার শুরু থেকেই ক্রেতার উপস্থিতিতে এবারের বিক্রি নিয়েও সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা।
রোজিনা আক্তার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, মার্কেট তুলনামূলক কম দামে জিনিস কিনতে পাওয়া যায়। তবে সেটি অবশ্যই দামাদামি করে কিনতে হয়। তাছাড়া এর চেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে একসাথে সব ধরনের ও সব বয়সীদের কাপড় পাওয়া যায়। অন্য জায়গায় বেশি ঘুরতে হয়। কিন্তু বিক্রেতারা এখনও দাম ধরে রেখেছেন। মনে হচ্ছে সব কাপড়ের দামই তারা একটু বেশি চাইছেন।
অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শুরু থেকেই বিক্রি বেড়েছে অনেক। ব্যবসায়ীদের ধারণা, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে গত বছর মার্কেটে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার এখন সে ধরনের কোনো শঙ্কা কিংবা ভয়ভীতি না থাকার কারণে রোজার শুরু থেকেই ক্রেতারা কেনাকাটা করতে আসছেন।
তবে মাসের মাঝামাঝি সময় হওয়ার কারণে এখনো অনেক মানুষ কেনাকাটা শুরু করেননি। মাস শেষে বেতন পাওয়ার পর এই জনস্রোত আরো বাড়বে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। অপরদিকে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনার বিষয়টি জানিয়েছেন থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ওসি মো নাজমুল কাদের জানান, পৌর শহরে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। রোজার শুরু থেকেই যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে আমরা সচেষ্ট রয়েছে। ক্রেতারা যেন নির্ভীক নেই করতে পারেন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। যেকোনো সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষজন আমাদের কাছে আসতে পারেন।