মোঃ মাঈনুউদ্দিন বাহাদুর, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার মুরাদনগরে স্থানীয় সরকার ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছে তার জন্মভূমির জনগন। গত রবিবার আসিফ মাহমুদের নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানো ওবাইদুলের ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে দ্বন্দ্বে জড়ানো কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কোম্পানীগঞ্জ ¯ট্যান্ডে চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে সিএনজি সিরিয়াল করেন কেরানি আবুল কালাম আজাদ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সে গাড়ীগুলোকে সিগন্যাল দিয়েছিল। তখন ওবাইদুল ও তার সহযোগীদের গাড়ী আটক পরলে তারা কেরানি আজাদকে বলে তাদের গাড়ী আগে ছেড়ে দিতে। কেরানি আজাদ রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে ওবাইদুল ও তার সহযোগীরা। ঘটনাস্থলে সিএনজি চালকরা উপস্থিত হলে পুলিশ এনে আজাদকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ওবাইদুল ও সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কে আজাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে মিছিল করা হয়।
সিএনজি চালকরা বলেন, আমরা চাঁদা দেই না, ¯ট্যান্ডে জিপি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। কেরানি আজাদ ভাইয়ের ছোট ভাই মেহেদী জুলাই আন্দোলনে প্রথম পতাকা তুলে মিছিল দেয়। আজাদ ভাই টুকেন দিয়ে সিএনজির সিরিয়াল নিশ্চিত করে তাই যানজট হয় না রাস্তায়। বিনিময়ে আমরা সবাই টাকা তুলে তাকে মাসিক বেতন দেই। তাকে অবৈধভাবে মেরে পুলিশে দেওয়ায় আমরা প্রায় দুইশত ড্রাইভার থানায় যাই।
আমরা শ্রমিকরা মারামারি করলে ছেলেগুলো আমাদের সাথে পারতো না। আমরা আজাদ ভাইয়ের মুক্তির জন্য গিয়েছিলাম। তখন উপদেষ্টা আসিফ ভাইয়ের দাপট দেখিয়ে থানায় ওবাইদুল, সাজিদ ও তাদের সহযোগীরা ঘেরাও করে। থানায় প্রবেশ করে ওসির রুমের সামনে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা মেহেদীকে মারধর করে। ওবাইদুল ও সাদিজ প্রকাশ্যে মাইকে সবাইকে গালিগালাজ সহ ঘোষণা দেয়, “প্রশাসন এখন আমাদের।”
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নাম ভাঙিয়ে বিগত সময় ধরে হয়রানি করায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে ব্যাপক শোডাউন করে। মিছিলে তারা বলেন, “দেবীদ্বারের হাসনাত আ.লীগ পুর্নবাসন করবে না বলে সেনাবাহিনীকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে। আমাদের আসিফ আ.লীগ দিয়ে দল ভারী করে। আ.লীগের নেতারা চাঁদাবাজি করে, তাদের শেল্টার দেয়।”
পরবর্তীতে যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগন থানায় উপস্থিত হলে ত্রিমুখী বিক্ষোভ ঘটে। সম্পূর্ণ ঘটনায় পুলিশের অবস্থান ছিল নিষ্ক্রিয়। রাতে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আজাদকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ন্যায় বিচার পাবে জানালে উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়।
উপজেলা পরিষদে কর্মরত সরকারি একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের অফিসিয়াল কাজে প্রতিনিয়ত হস্তক্ষেপ করে ওবাইদুল ও কিছু সমন্বয়ক। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নাম ভাঙিয়ে তার সাথে ফেসবুকে ছবি দেখিয়ে হুমকি দেয় তারা। তাদের ভয়ে আমরা নিরুপায় হয়ে কাজ করছি। দেশে জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট নষ্ট করছে অবৈধ সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিরা।
থানায় প্রবেশ করে ওসির কক্ষের সামনে মারধর ও তাদের বলা “প্রশাসন আমাদের” এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর থানার ওসি বলেন, “প্রশাসন তাদের এমন কোনো কথা কেউ বলেনি। আমরা আসামি ধরেছি, চালান করেছি। আপনি বলছেন ভিডিও আপনার কাছে ভিডিও আছে, থাকলে আবার দেখুন, কথাগুলো আবার শুনুন। তারা এসব বলে থাকলে নিউজ করে দেন।