মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে, যে সাহস নিয়ে আপনারা দাঁড়িয়েছিলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন আশা থাকবে আমাদের এই বাংলাদেশে সেই স্বপ্নগুলো আমরা বাস্তব করতে পারব। দেশটা জনগণের হবে, সবার অধিকার সমান থাকবে। কারো পদ আছে বা সম্পত্তি কেমন আছে সেই অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত হবে, ভোটের অধিকার খর্ব হবে, কাউকে অপমান করা যাবে, সেই বাংলাদেশ যেন আর কখনোই না হয়।
তিনি আরও বলেন, আজকে এখানে যারা এসেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আমার পূর্বে দেখা হয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেখা করতে পেরে ভালো লাগছে। ঈদের আগে সুন্দর একটা অনুষ্ঠান ও ঈদ উপহার বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, আপনারা সাহস, ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ও গুলির মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শুধু একবার না আপনারা গুলির মুখে বারবার দাঁড়িয়ে ছিলেন। মৃত্যু সামনে জেনেও আপনারা বারবার দাঁড়িয়ে ছিলেন গুলির সামনে। আসলে এটা কোনো বলার ভাষা রাখে না। সে কারণেই আমরা এখন গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি।
তিনি বলেন, যেই সাম্যের বাংলাদেশের জন্য জুলাই অভ্যুত্থানটা হয়েছে সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা সবাই এক সঙ্গে মিলে কাজ করব।
রবিবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারসমূহের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক মিজ সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মীর মাহমুদ সুজন, মুখপাত্র রাজিব মোল্লা, সদস্য মিরাজুল মাজিদ তূর্য্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমজান আলী, ঢাকা বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইমরুল হাসানের সঞ্চালনায় স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ইফতেখার আহমেদ, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর নাহিদ আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার সদস্য সচিব মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মূখ্য সংগঠক হাসিবুল ইসলাম শিমুল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদুরজ্জামান সাকিব, আলতাব মাহমুদ, ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সদস্য টোকন মন্ডলসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিহত ৩ শহীদ পরিবার ও আহত ৭৭ জনের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে চাল, চিনি, সেমাই, তেল ও গুড়া দুধ দেওয়া হয়।