আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীতে সালমা আক্তার (৩৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘর থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামে নিহতের স্বামীর বাড়ির ঘরের খাটের ওপর সালমার গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সালমা বেগম হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী। তার সাদিক নামে ৭ বছর বয়সি এক ছেলে ও সিনহা নামে ৫ বছর বয়সি এক মেয়ে রয়েছে।
সালমার শ্বাশুড়ি লতা বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টার দিকে খাওয়া দাওয়া শেষ করে পুত্রবধূ সালমা দুই শিশু সন্তান নিয়ে নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমাতে যায়। অন্য ঘরের এক কক্ষে আমি ও আমার ছোট ছেলে রাহাত ঘুমাই, অন্য কক্ষে আমার বড় ছেলে আমজাদ ও তার স্ত্রী মিম ঘুমায়। সকাল ৬টার দিকে আমি ঘুম থেকে উঠে সালমার ঘরের সামনে গিয়ে নাতি সাদিককে ডাক দেই। এসময় সাদিক ঘরের ভেতর থেকে কান্না করে বাইরে থেকে দরজা খুলতে বলে। তখন আমি দেখি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। আমি দরজা খুলে ঘরের ভেতর ঢুকে দেখি সালমা খাটের ওপর চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় রয়েছে। তার শরীর কাঁথা দিয়ে ঢাকা এবং গলায় ওড়না দিয়ে টাইট করে পেঁচানো। তার দু’পাশে দুই সন্তান বসে আছে।’
তিনি আরও বলেন, সালমার সাত বছর বয়সি ছেলে সাদিক বলে, ‘রাতে আমাদের ঘরে হিমায়েত এসেছিল। তার সঙ্গে মুখোশ পড়া আরও দু’জন ছিল। তারাই আমার আম্মুকে মেরেছে।’
হেমায়েত কে জানতে চাইলে সাদিক বলে, ‘আমরা যখন ঢাকায় থাকতাম, তখন হিমায়েত আমাদের আঙ্কেল হত।’
এদিকে সালমার শ্বশুরবাড়ির কিংবা বাবার বাড়ির কোনো সদস্য হিমায়েত নামে কাউকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন। আজাদ ও সালমা ঢাকায় থাকাকালে হিমায়েত নামে কারও সঙ্গে পরিচয় থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, সালমা বেগমের গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটন ও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।