দৈনিক আমার বাংলাদেশ প্রতিনিধিঃ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নতুন হামলায় আরও ৭৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪২৩ জনে।
বুধবার ভোর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩৮ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় আটকে থাকলেও উদ্ধারকারীরা এখনো তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।
দীর্ঘ ১৫ মাসের সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক চাপে গত ১৯ জানুয়ারি ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর প্রায় দুই মাস গাজায় তুলনামূলক শান্তি বিরাজ করছিল। তবে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গাজায় আবারও বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল, যার পেছনে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় ১ হাজার ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এই হামলার মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরাইলি হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই এলাকায় ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি হয়েছে ইসরাইল। তবুও থামছে না তাদের সামরিক অভিযান।