মাহমুদুর রহমান নাঈম, ঢাকা প্রতিনিধি:
ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে দেশটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান এই নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের টার্গেট করে একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার চরম বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস করে মুসলমানদের ওয়াকফকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দখলের পথ তৈরি করা হয়েছে। আমরা এই অবিচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
নেতারা আরও বলেন, “এর আগে মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান তিন তালাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণ ঠেকাতে ধর্মান্তর বিরোধী আইন করা হয়েছে। মুসলিমদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) পাস করা হয়েছে। এভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।”
তারা বলেন, “ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। বিভিন্ন অজুহাতে মসজিদ ভাঙা, রাস্তাঘাটে মুসলিমদের হেনস্তা, ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা, এবং গরুর গোশত রাখার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে ভারত ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার ইসরাইল হয়ে উঠছে।”
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধেও ভারতীয় মিডিয়া ও কিছু সরকারি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করার পাঁয়তারা।”
বিবৃতিতে তারা বলেন, “ভারতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা বীরের জাতি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে ভারতীয় মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাই। ভারতের সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো সময়ের দাবি।”